দৈনিক নয়া দিগন্ত বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম, যা প্রতিদিন পাঠকদের কাছে সর্বশেষ খবর, বিশ্লেষণ, ও ঘটনার পেছনের সত্য তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করে। ২০০৪ সালে প্রিন্ট সংস্করণ হিসেবে এর যাত্রা শুরু। নয়া দিগন্তে জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম ও লাইফস্টাইলসহ নানা বিষয়ের সংবাদ পরিবেশন করা হয়। তথ্যের নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও সাংবাদিকতার নীতিমালাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন এই স্লোগানকে ধারন করে নয়া দিগন্ত একটি তথ্যবহুল, দায়িত্বশীল ও পাঠকবান্ধব সংবাদপত্র হিসেবে দেশের মানুষের পাশে থাকা এবং সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক খবর সবার আগে পৌঁছে দেয়।

DUCSU 2026
সংস্কারে টানাপড়েন, জবাবদিহিতে ঘাটতি!

সংস্কারে টানাপড়েন, জবাবদিহিতে ঘাটতি!

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাগুলোর একটি ছিল রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের ভিত্তি তৈরি এবং নির্বাহী বিভাগের ওপর কার্যকর সংসদীয় নজরদারি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু প্রথম ছয় মাসেই সেই প্রত্যাশার সাথে বাস্তবতার ফারাক স্পষ্ট হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংসদীয় কমিটির একটিরও সভাপতির পদ বিরোধী দলকে না দেয়া, হাজার হাজার প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া এবং সংস্কারসংশ্লিষ্ট আইন দ্রুততার সাথে পাসের ঘটনায় সংসদীয় জবাবদিহি ও সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে তিন অধিবেশনে ১১০টি বিল পাস, বাজেট অনুমোদন ও ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদের সক্রিয়তার চিত্রও পাওয়া গেছে। ফলে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নে সক্রিয়তা ও জবাবদিহির ঘাটতি- দুই বিপরীত চিত্রই সামনে এসেছে।

ব্যাংকিং খাতের ভেতরেই ঋণ-বোমা

ব্যাংকিং খাতের ভেতরেই ঋণ-বোমা

দেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্যটি হয়তো নতুন কোনো পরিসংখ্যানে নয়; বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় পাঁচ দশকের তথ্যসংগ্রহের ইতিহাসেই লুকিয়ে আছে। ১৯৭৪ সালের জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত, ঋণ, অগ্রিম, বিল, সুদের হার, খাতভিত্তিক ঋণ, পুনরুদ্ধার ও বকেয়া অর্থের তথ্য সংগ্রহ করছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং খাতে কোথায় ঝুঁকি জমছে- তা জানার মতো তথ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে; কিন্তু সেই তথ্যই এখন একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে এনেছে- তথ্য যদি থাকে, ঝুঁকি শনাক্তের ব্যবস্থা যদি থাকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাও যদি থাকে, তাহলে ব্যাংকিং খাতের ঋণঝুঁকি এত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাল কিভাবে?

রহস্যে ভরা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

রহস্যে ভরা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

রামপালের অস্বাভাবিক হারে বন্ধ হওয়ার ইতিহাস নতুন নয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাত্র সাত মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি ছয়বার বন্ধ হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬ জুলাই টারবাইনের ত্রুটির কারণে ইউনিট বন্ধ হয়ে চার দিন পর চালু হয়। ৩০ জুলাই আবার কয়লা সঙ্কটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, কয়লা আসার পর ৮ আগস্টের দিকে উৎপাদন আবার শুরু হতে পারে। একই বছরের ডিসেম্বরে ইমপালস টিউব লিকেজের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়। এর আগে নভেম্বরেও যান্ত্রিক সমস্যায় কেন্দ্র বন্ধ হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর অষ্টমবারের মতো বন্ধ হয়েছিল।

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পরবর্তী যুদ্ধের কেন্দ্র কোথায় হবে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সৌদি আরব ইতোমধ্যে যুদ্ধের অভিঘাত নিজের ভূখণ্ডে অনুভব করছে। তবে ইরান ও সৌদি আরব উভয়েই জানে, সরাসরি যুদ্ধের মূল্য ভয়াবহ। তাই সবচেয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হলো— পূর্ণাঙ্গ ইরান-সৌদি যুদ্ধ নয়; বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্সি ও অবকাঠামোগত যুদ্ধ। কিন্তু প্রক্সি যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো— কোনো একটি হামলা হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় যুদ্ধের দরজা খুলে দিতে পারে। তখন প্রশ্ন হবে— মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কে নির্মাণ করবে? যুক্তরাষ্ট্র? চীন? ইরান? সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান? নাকি শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মধ্যপ্রাচ্য এমন এক বহুমেরু সঙ্ঘাত অঞ্চলে পরিণত হবে, যেখানে কোনো একক শক্তিই আর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না? সম্ভবত দ্বিতীয়টিই বেশি বাস্তবসম্মত।